নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : 9:47 pm
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়েতে বরের জন্য সাজানো খাবারের থালায় ‘আস্ত খাসি’ না দেয়ায় বিয়ে না করেই বরের ফেরত চলে যাওয়ার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তবে বরপক্ষ উল্টো কনেপক্ষের বিরুদ্ধে পূর্বনির্ধারিত কাবিনের টাকার চেয়ে ১০ গুণ বেশি টাকা কাবিন দাবির অভিযোগ তুলেছেন। যার কারণে বাধ্য হয়ে বিয়ে না করেই বিয়ের আসর থেকে ফেরত যেতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন বর মো. জুনায়েদ। গতকাল সোমবার (১৭ আগস্ট) আখাউড়ার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জুনায়েদ জেলার কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল সোমবার তোলাতলা গ্রামের শফিক মিয়ার মেয়ের সাথে নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে জুনায়েদের বিয়ের দিন ধার্য ছিল। দুপুরে বর ও বরযাত্রী সবাই কনেপক্ষের বাড়িতে পৌঁছান। পরে বরযাত্রীর খাবার শেষে বরের জন্য সামনে খদর (বরের জন্য সাজানো খাবারের থালা) দেওয়া হয়। এ সময় খদরে আস্ত খাসি না দেয়ায় বর জুনায়েদ আপত্তি জানান বলে অভিযোগ করে কনেপক্ষ। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে কনেপক্ষের সাথে তর্কবিতর্কের পর বিয়ে না করেই আসর থেকে ফিরে যায় বর ও বরপক্ষের লোকজন।
খাসিকাণ্ডের খবরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠে। তবে আস্ত খাসি নয়, বরং পূর্বনির্ধারিত কাবিনের চেয়ে অতিরিক্ত টাকায় কাবিন ঠিক করার জন্য জোরাজুরির কারণে বাধ্য হয়ে বিয়ে না করেই আসন থেকে ফিরে যেতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন বর জুনায়েদ মিয়া।
নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে জুনায়ে লিখেছেন, বিয়ের আসরে বসে খাওয়া-দাওয়া শেষে মেয়েপক্ষ আমার কাছে পূর্ব নির্ধারিত অ্যামাউন্টের চেয়ে ১০ গুণ অতিরিক্ত কাবিন দাবি করে। আমি এবং আমার পরিবার তা দিতে অস্বীকর করলে এবং কথা কাটাকাটি-তর্কাতর্কি শুরু হলে তারা আমাদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেয়।
পোস্টে তিনি আরও লিখেন, রাতে তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিয়ে করতে বললেও আমি তাতে রাজি হইনি। ফলে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে আমাকে জবাই করে ফেলার।
তবে কাবিনের অতিরিক্ত টাকা চাওয়ার অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে কনের বাবা শফিক মিয়া বলেন, খাসির বিষয়ে আপত্তি তোলার পর আত্মীয়-স্বজনসহ সবাই জুনায়েদকে বুঝানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সে কোনোভাবেই রাজি হয়নি। পরে তার আচরণ ও আমার মেয়েকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা ভেবে বিয়ে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেই।
ধরখান ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আশিক মিয়া বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। ছেলেটি খাবার নিয়ে খারাপ আচরণ করেছে। এতে মেয়ের বাবা বিয়ে দেবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়।
Posted ৯:৪৭ পিএম | মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
The Daily Sarod | Pijush Kanti Acharya